একটি শক্তিশালী টেকটোনিক সংঘর্ষ ও ইরানের তেলের প্রাচুর্যের ইতিহাস

প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে আরবীয় টেকটোনিক প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সূচনা হয়, যার ফলে প্রাগৈতিহাসিক 'টেথিস মহাসাগর' ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে শুরু করে। এই মহাসাগর একসময় 'লরেশিয়া' ও 'গণ্ডোয়ানা' নামের দুই সুপারমহাদেশকে পৃথক করে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে গিয়ে আজকের উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার রূপ নেয়।

তবে সেই প্রাচীন সাগর পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি; এরই একটি অবশিষ্টাংশ আজকের হরমুজ প্রণালি হিসেবে টিকে আছে, যা বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি ও ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।

যে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় এই প্রণালির সৃষ্টি, সেটিই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিপুল তেলসম্পদেরও মূল কারণ। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর তথ্যমতে, আরবীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের নিচে সরে যেতে থাকলে ভূপৃষ্ঠে ভাঁজ সৃষ্টি হয় এবং গড়ে ওঠে জাগরোস পর্বতমালা, যার ওজন আরবীয় প্লেটের একটি অংশকে নিচে নামিয়ে দেয় এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালির গঠন ঘটে।

এই অঞ্চলে কোটি কোটি বছর ধরে সমুদ্রের নিচে থাকা জৈব পদার্থ যেমন মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশেষ পলি ও বালুর স্তরের নিচে চাপা পড়ে তীব্র তাপ ও চাপের ফলে ধীরে ধীরে রূপ নেয় অপরিশোধিত তেলে, যা আজকের জ্বালানি সম্পদের ভিত্তি তৈরি করেছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও 'প্রিজনার্স ও জিওগ্রাফি' গ্রন্থের লেখক টিম মার্শাল এই প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিও প্রকৃতির সামনে বাধার মুখে পড়তে পারে। তার মতে, প্রাকৃতিক ভূগঠনই কখনো কখনো শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণ করে দেয়। সূত্র: সিএনএন