ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে হামলা ও আতঙ্ক থামেনি বলে জানিয়েছেন শহরটির এক বাসিন্দা। তার ভাষায়, সরকারি ঘোষণায় যুদ্ধবিরতি থাকলেও বন্দর আব্বাসের মানুষের কাছে পরিস্থিতি এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতোই।
আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রথম-ব্যক্তির বর্ণনায় এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৪৪ বছর বয়সী একক মা পারিসা (ছদ্মনাম)।
তিনি জানান, ১১ জুলাই সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরের দুই প্রান্তে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখতে পান। একই সময়ে হামলার শিকার হয় বন্দর আব্বাসের শাহিদ রাজাই বন্দর ও বিমানবন্দর।
পারিসার ভাষায়, এটি তার জীবনের তৃতীয় যুদ্ধ। শৈশবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি অস্পষ্ট হলেও সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো তাকে প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে রেখেছে।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ শুরু হয়েছিল মিনাবের একটি স্কুলে হামলার মাধ্যমে, আর জুলাইয়ের যুদ্ধের সূচনা হয় বামপুরে সেনা সদস্যদের আবাসিক ভবনে হামলা দিয়ে। সেখানে সামরিক সেবা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু তরুণ নিহত হন।
নিজের ২৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান পারিসা। তার ছেলে সেনাবাহিনীতে না থাকলেও সমুদ্রে কাজ করেন। তাই প্রতিদিনই ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাকে।
তিনি বলেন, বাড়ির পাশেই বিমানবন্দর হওয়ায় হামলার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ থামার অপেক্ষায় মাটিতে কান পেতে থাকতেন। এমনকি এখন কোনো দরজা জোরে বন্ধ হলেও তিনি চমকে ওঠেন, মনে হয় আবার হামলা শুরু হয়েছে।
যুদ্ধের সময় এক বন্ধুর স্বামী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন পারিসা। তিনি বলেন, বন্ধুর ছোট দুই সন্তান এখনো বিশ্বাস করে তাদের বাবা একদিন ফিরে আসবেন। সেই দৃশ্য সহ্য করা তার পক্ষে কঠিন।
যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় স্থানীয় একটি নারীগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছেন পারিসা। তবে তার মতে, ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে ছোট উদ্যোগ দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।
শেষে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো নাম দেওয়া যাচ্ছে না। এটি যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি নাকি শান্তি, কিছুই স্পষ্ট নয়। আর এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রতিদিন কাটাতে হচ্ছে বন্দর আব্বাসের মানুষের জীবন। সূত্র: আলজাজিরা