আলী খামেনি হত্যা, 'তেহরান  ক্ষমা করবে না ভুলবেও না'

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হত্যার ঘটনা তেহরান কখনো ক্ষমা করবে না এবং ভুলবেও না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন বন্ধ করে তার ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনা এমন একটি বিষয়, যা ইরান কখনো ক্ষমা করবে না এবং ভুলবে না। তার এই মন্তব্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার বিষয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন আরাঘচি। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা পুনরায় শুরুর পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন বন্ধ এবং ওই লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় ফিরবে না।

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করা বন্ধ না করা এবং সেই লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির কথাও জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের আলোচনা একটি নতুন সামুদ্রিক পথ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। পুরোনো নৌ চলাচল ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সম্ভাব্য নতুন রুট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন এবং আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ওমানের সঙ্গে নতুন নৌপথ নিয়ে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমনটা নয় বলে স্পষ্ট করেন আরাঘচি। প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরও কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কেবল ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বিও জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরান-ওমান আলোচনার সঙ্গে সম্পূর্ণ আলাদা। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে ইরানের শর্ত মেনে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাপ ও জবরদস্তির মুখেও প্রতিরোধের নীতি থেকে ইরান সরে যাবে না বলেও জানান আরাঘচি। তেহরানে আয়োজিত মহররম ও আশুরার তাৎপর্যবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিপীড়ন, অন্যায় ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য ইরানের বর্তমান অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি।

ইমাম হোসাইনের আদর্শের কথা উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, প্রকৃত সাহস কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয় না; বরং নীতির পক্ষে ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতিই সাহসের প্রকৃত পরিচয়।

তিনি বলেন, এই আদর্শিক ও কৌশলগত অবস্থান থেকেই ইরান সব ধরনের চাপের মধ্যেও প্রতিরোধের নীতিতে অটল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অটল থাকবে। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় দেওয়া ত্যাগের প্রতিও তেহরান অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। সূত্র: তেহরান টাইমস