ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পৃথক ডিক্রির মাধ্যমে শীর্ষ নিরাপত্তা পদে একজন এবং সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পদে নতুন দায়িত্বশীল নিয়োগ দিয়েছেন।

নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে। দীর্ঘদিনের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজাইকে কাউন্সিলের নতুন সচিব এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি করা হয়েছে। তিনি এর আগে ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান ছিলেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও বাহিনীটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নতুন প্রধান হয়েছেন মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। তিনি এর আগে ইরানের যৌথ যুদ্ধ কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। তার ডেপুটি করা হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হেইদারিকে, যিনি আগে সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন।

আইআরজিসিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে বাহিনীটির নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডে ছিলেন এবং প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ডেপুটি হয়েছেন মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর নতুন কমান্ডার হয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ওজামাই। এর আগে তিনি বাহিনীটির পঞ্চম নৌ অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ার পর ওজামাই ভারপ্রাপ্তভাবে বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এদিকে বাসিজ অর্গানাইজেশনের নতুন প্রধান করা হয়েছে আইআরজিসির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হোসেইন তাইবকে। তিনি ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধে বাসিজের সাবেক প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর তাইবকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগগুলো শুধু যুদ্ধের পর শূন্য হয়ে যাওয়া পদ পূরণের উদ্যোগ নয়; এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রেজাইয়ের নিয়োগ আইআরজিসির অভিজ্ঞ পুরোনো নেতৃত্বকে সামনে এনে অভ্যন্তরীণ সংহতি ও নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ইঙ্গিত দিতে পারে।

নতুন নেতৃত্বের বড় একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রায় সবাই ইরান-ইরাক যুদ্ধসহ দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। ফলে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তেহরান যে নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সামরিক অভিজ্ঞতা ও আনুগত্যনির্ভর করতে চাইছে, নিয়োগগুলোর ধরনেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

বিশেষ করে রেজাই ও ভাহিদির মতো পুরোনো আইআরজিসি নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরানোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আলোচনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিতেও শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কিছু বিশ্লেষক। সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি