ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নেই: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়া থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে এবং নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইসরায়েলের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরাক সফরের সময় বাগদাদে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর অঞ্চলটির নিরাপত্তা সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে।

ইরাক সফরের শুরুতে বাগদাদ বিমানবন্দরে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব মন্তব্য করেন গালিবাফ। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হওয়ার স্থানটিও তিনি উল্লেখ করেন।

গালিবাফ বলেন, ওই স্থান ইরান ও ইরাকের অভিন্ন ইতিহাস এবং তাঁর ভাষায় সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সংঘাতের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরোধ ফ্রন্টের শক্তি ও বিস্তার ঠেকাতে সোলাইমানি ও মুহান্দিসকে হত্যা করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ শক্তির বিস্তার থামাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন ইরানি স্পিকার।

তিনি বলেন, অঞ্চলটির বর্তমান পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে কারা এগিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, রমজান যুদ্ধ ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং প্রতিরোধের ধারণা এখন বৈশ্বিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

গালিবাফের ভাষায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন শুরু হয়েছে। নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় বিদেশি ও অঞ্চলবহির্ভূত শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে।

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা খুঁজছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেও মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।

গালিবাফ বলেন, ইরাক সফরের অন্যতম লক্ষ্য নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গভীর নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানান, সফরে তিনি ইরাকের সরকারি ও পার্লামেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কারবালায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফনের ৪০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।

ইরান ও ইরাকের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও গভীর উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, দুই দেশের বন্ধন অটুট এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বই তাদের শক্তি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি