ইসরায়েল ১৯৪৮ সালে ডুবে যাওয়া অস্ত্রবাহী জাহাজ ‘আলতালেনা’র ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র এক মাসের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনাটি দেশটির ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে পরিচিত এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান।
ইসরায়েলের ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিহাই এলিয়াহু সোমবার (২৪ আগস্ট) জানান, ইসরায়েলের উপকূল থেকে পশ্চিমে ৫০৩ মিটার গভীরে অক্ষত অবস্থায় জাহাজটির সন্ধান পাওয়া গেছে। ডুবে যাওয়ার ৭৮ বছর পর জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
১৯৪৮ সালে ফ্রান্স থেকে অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল আলতালেনা। অস্ত্রগুলো ছিল ইরগুনের জন্য। ইরগুন ছিল একটি ইহুদি জঙ্গি জায়নবাদী সংগঠন, যারা ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল।
ওই বছরের জুনে তেল আবিবের উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজটিতে গুলি চালায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বাইরে কোনো সশস্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি গড়ে উঠতে না দেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সে সময় প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছিল।
আলতালেনা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ইরগুনের ১৬ সদস্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর তিন সেনা নিহত হন। ইরগুনের নেতা মেনাখেম বেগিন তাঁর যোদ্ধাদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তাঁর সেই আহ্বান পরে বিখ্যাত হয়ে ওঠে-‘আমাদের ফটকে শত্রু থাকা অবস্থায় গৃহযুদ্ধ হবে না।’
আলতালেনা-কেন্দ্রিক সংঘাত ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দুটি প্রধান ধারার বিভাজনও স্পষ্ট করে। বেন-গুরিয়নের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে বেগিনের নেতৃত্বে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ধারার উত্থান ঘটে। ১৯৭৭ সালে বেগিন প্রধানমন্ত্রী হন এবং ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের উত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের ঘোষণা দেওয়া মন্ত্রী এলিয়াহু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের কট্টর ডানপন্থী অংশের সঙ্গে যুক্ত। তিনি আলতালেনার ঘটনাকে ‘গভীর জাতীয় ক্ষত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে বেগিন যে ঐতিহাসিক দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছিলেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি।
এলিয়াহুর ভাষায়, নিজের ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর মুখোমুখি হতে যে দেশ ভয় পায় না, সেই দেশই শক্তিশালী।
আলতালেনায় নিহত ইরগুন সদস্যদের স্মরণে ২০০৮ সালে তেল আবিবের সমুদ্রতীরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। বহু বছর ধরে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খোঁজা হচ্ছিল। এ কাজে নিয়োজিত দলগুলো অনেক সময় গোপনে অভিযান চালিয়েছে।
তবে উদ্ধার করা জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের পরবর্তী কী হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সূত্র: আরব নিউজ