আলজাজিরার প্রতিবেদন

আলোচনার জট কি খুলতে পারবেন আসিম মুনির

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা শান্তি আলোচনা আবারও সচল করতে পাকিস্তানের তৎপরতা কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরানের পথে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। চলতি বছর এটি ইরানে তার তৃতীয় সফর।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরে মুনির দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের দাবি, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফর। তবে ইসলামাবাদ এখনো সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করেনি।

তেহরানে যাওয়ার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার দিনের ব্যবধানে দুবার ফোনে কথা বলেছেন মুনির। এসব আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের উপায় নিয়ে কথা হয়েছে।

তবে মুনিরের এবারের সফরের গুরুত্ব শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার যে পথ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি হয়েছিল, সেটিই এখন কার্যত থমকে গেছে। জুনে পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের মেয়াদ আগস্টের মাঝামাঝি শেষ হয়েছে। দুই পক্ষের কেউই এর মেয়াদ বাড়ায়নি।

এর মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন, যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করছেন। তেহরান অবশ্য এ উদ্যোগকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও অবস্থান অনড় রেখেছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়তে হবে এবং সামরিক হুমকি বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ রাখার অবস্থানে রয়েছে ইরান।

ফলে মুনিরের তেহরান সফরে হরমুজ পরিস্থিতি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ইয়েমেনের হুথিদের কর্মকাণ্ডও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাবসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা পাকিস্তানের জন্যও সরাসরি উদ্বেগের কারণ। গত ১১ আগস্ট বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলায় তিন পাকিস্তানি নাবিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।

তেহরানে মুনির ইরানের নতুন সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সম্ভাব্য বৈঠকে থাকবেন আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব মোহসেন রেজাই।

এবারই অবশ্য প্রথম নয়। এপ্রিল ও মে মাসেও তেহরান সফর করেছিলেন মুনির। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইসলামাবাদ।

তবে আসিম মুনিরের হাতে আসলে কতটা প্রভাব রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ মনে করছেন, পাকিস্তান এমন একটি পক্ষ, যার নিজেদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকায় উভয় পক্ষের জন্য আলোচনায় ফেরার একটি পথ তৈরি করতে পারে। আবার অন্যদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় কাতারই এখনো প্রধান যোগাযোগের সেতু। মুনিরের ভূমিকা মূলত ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেই বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে মুনিরের সফর থেকে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, তার সফর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোর একটি সমঝোতার পথ তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে। আর সেটি সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন