হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জানা রাডারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। দেশটির বাহিনী স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজর রাখছে বলেও জানিয়েছেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মেহর নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে মোহেবি বলেন, ইরানের নজরদারি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা শত্রুপক্ষের জানা কয়েকটি রাডারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফলে কিছু রাডার ধ্বংস করার পর ইরানের সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের রাডার লক্ষ্য করে হামলা এবং এরপর ট্যাংকারগুলোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। মোহেবির দাবি, এসব বক্তব্যের বড় অংশই গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য দেওয়া।
ইরানি বাহিনীর গোয়েন্দা সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে জাহাজে চালানো নির্দিষ্ট হামলার কথা তুলে ধরেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, কোনো জাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে আঘাত করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হলে, সেটি লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা সক্ষমতারই প্রমাণ।
মোহেবি প্রশ্ন তুলে বলেন, সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের এমন নির্দিষ্ট স্থানে হামলা চালানো সম্ভব হতো কীভাবে, যদি ইরানের কাছে সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকত?
তার দাবি, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের রাডার ও নজরদারি নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের পরিচিত কয়েকটি রাডার ধ্বংস হওয়ার অর্থ এই নয় যে দেশটির পুরো নজরদারি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে।
পারস্য উপসাগরের বিশাল জলরাশিতে রাতের অন্ধকারেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক সমন্বয়ের প্রমাণ বলেও দাবি করেন মোহেবি।
তিনি বলেন, ইরান কীভাবে তার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করছে, তা শত্রুপক্ষ পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম নয়। বরং হামলার ফলাফল ও নির্ভুলতাই ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতার মাত্রা প্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেন আইআরজিসির মুখপাত্র। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরান-সৌদির সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ইরাকের
হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তৎপরতা
আলোচনার জট কি খুলতে পারবেন আসিম মুনির