ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন পরিকল্পনাকে কটাক্ষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘আমেরিকাকে আবার ক্ষুধার্ত’ করার পথে হাঁটার অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’কে পাল্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘মেক আমেরিকা হাংরি এগেইন’ একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পরাজয়কে মিথ্যা দাবি দিয়ে আড়াল করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসংকটের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন গালিবাফ। সেখানে দাবি করা হয়, দেশটিতে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়ছেন, প্রতি আটজনের একজন খাদ্যসংকটে রয়েছেন এবং প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষুধার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব তথ্যের উৎস হিসেবে ফিডিং আমেরিকা, মার্কিন কৃষি বিভাগ ও নো কিড হাংরি-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গালিবাফের এই বক্তব্য এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের প্রস্তুতির মধ্যেই। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এরই মধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও চাপে পড়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দাম রেকর্ড পর্যায়ে নেমে এক ডলারের বিপরীতে ২০ লাখেরও বেশি রিয়ালে দাঁড়ায়।
তবে গালিবাফের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ইরানি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, সামরিক শক্তি যতই থাকুক, জনগণ ক্ষুধার্ত থাকলে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ, প্রবৃদ্ধি ও দেশীয় উৎপাদন না থাকলে কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।
এবারের পোস্টে অবশ্য গালিবাফের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্লোগানকে উল্টে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার দিকে পাল্টা আঙুল তোলা। তাঁর বার্তা, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ওয়াশিংটন নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো আড়াল করতে পারবে না। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি