হরমুজে ৪৫ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ৪৫টি তেলবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এসব জাহাজের সঙ্গে পণ্য স্থানান্তরে যুক্ত অন্য জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নতুন পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের নতুন গঠিত পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানায়, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক এবং তাদের বহন করা পণ্য জব্দ করা হতে পারে। তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরে যুক্ত অন্য জাহাজও ভবিষ্যতে কালো তালিকায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে ইরানের ঘোষণায় ঠিক কোন নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে জাহাজগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজ মালিকদের ইরানের অনুমতি নিতে হবে। নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের কথাও জানিয়েছিল দেশটি।

ইরানের প্রকাশিত তালিকায় অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের পাশাপাশি এলএনজি, এলপিজি ও পরিশোধিত জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার রয়েছে। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং, এডিএনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাভিগএইট ট্যাংকারস এবং সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরির মালিকানাধীন কয়েকটি জাহাজও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরানের এই সতর্কবার্তা এলো। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হুমকি দিলে তার জবাব হবে ধ্বংসাত্মক। একই সময়ে ওয়াশিংটনও ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

সংঘাতের কারণে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়ার আগে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ বড় তেলবাহী জাহাজগুলোতে তেল পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ট্যাংকারগুলোকে প্রণালি পার করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তেল রপ্তানির কিছু অংশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট শুক্রবার এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়া তেলের সাত দিনের গড় পরিমাণ দৈনিক ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি। তাঁর দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কালো তালিকা থেকে নাম সরাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোন জাহাজ ইরানের নিয়ম মেনে চলছে না, সে বিষয়ে পণ্য মালিকদের হালনাগাদ তালিকা পর্যালোচনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় ইরানের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

AS
আরও পড়ুন