ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক যুদ্ধ’কে ওয়াশিংটনের বিজয়ের নয়, বরং পরাজয়ের স্বীকারোক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে পরাজিত করে থাকে, তাহলে আবারও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে উদ্দেশ করে গরিবাবাদি বলেন, ‘বিজয়ের দাবি আর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানোর প্রয়োজন, দুইটি একসঙ্গে খাপ খায় না। এটি বিজয়ের নয়, পরাজয়ের স্বীকারোক্তি।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলে, সামরিক কারখানা ধ্বংস করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত নিষ্ক্রিয় করে থাকে, তাহলে কেন দেশটির বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চালাতে হচ্ছে।
গরিবাবাদির ভাষ্য, ওয়াশিংটনের বক্তব্যেই পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে। তার মতে, একদিকে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতা কাজে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে।
ইরানি এই কূটনীতিকের মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বেসেন্টের দাবি, এটি হবে কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক যুদ্ধ’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনতে চাপ দেবে বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট।
তবে তেহরানের দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার চেষ্টা সত্ত্বেও ইরান তার অবস্থান ধরে রেখেছে। তাই নতুন করে আর্থিক চাপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির নয়, বরং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতারই প্রতিফলন বলে মনে করছে দেশটি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
আগ্রাসীদের শর্তে যুদ্ধ শেষ করবে না ইরান: বাঘাই
'হরমুজে ইরানের নজরদারি যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়েও কঠোর'