যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ, আপস বা নিষ্ক্রিয়তার সমান নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের গালিবাফ। জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিরোধের অর্জন সংহত করার মাধ্যম হিসেবেই আলোচনাকে দেখেন তিনি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ষণশীল সংবাদপত্র কায়হানের সম্পাদক হোসেইন শরিয়াতমাদারিকে দেওয়া এক চিঠির জবাবে গালিবাফ এসব কথা বলেন।
গালিবাফ বলেন, ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য কোনো বিশেষাধিকার নয়; বরং এটি একটি কঠিন পরীক্ষা এবং গুরুদায়িত্ব। আলোচনাকে তিনি এমন কোনো বিষয় হিসেবেও দেখেন না, যা নিজেই ভালো বা মন্দ কিংবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তাঁর ভাষায়, আলোচনার নিজস্ব কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য নেই, আবার এটিকে নিষিদ্ধও বলা যায় না। একইভাবে আলোচনা একেবারে ভালো কিংবা একেবারে খারাপ, এমন কোনো সরল ধারণাতেও বিষয়টিকে দেখা উচিত নয়।
গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া, জনগণের অধিকার আদায়, নিপীড়ন দূর করা এবং প্রতিরোধের অর্জনগুলোকে সুসংহত করার কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠলেই আলোচনার প্রকৃত অর্থ তৈরি হয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে তেহরানের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বিতর্ক চলছে। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আলোচনায় বসাকে কেন্দ্র করে ইরানের রক্ষণশীল মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
গালিবাফের বক্তব্যে অবশ্য আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ ও ইরানের অর্জনকে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে রাখার অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র: ডন