তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ইরানি জনগণের সব বৈধ অধিকার স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, ইরান তার ন্যায্য অধিকারের বাইরে কিছুই চাইছে না এবং যুদ্ধও চায় না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান ইরান ও কাতারের সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম হিসেবে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ পিছিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা তৈরি করছে। তার দাবি, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠা ঠেকানোই ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্য।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য দেশটির সরকার ও আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত বাড়াতে চায় না। ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা দেশ, অঞ্চল ও পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু মহলের সমঝোতা ঠেকানোর চেষ্টারও সমালোচনা করেন। পেজেশকিয়ানের মতে, কিছু পক্ষের স্বার্থ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে থাকলেও ইরানের কাছে শান্তি ও নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরানের নেতা, সামরিক কমান্ডার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কাঠামোতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, ইরানের জনগণের সব অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় স্বীকার করতে হবে এবং তেহরান এর বাইরে কিছু দাবি করছে না।
বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রীও শক্তি ও হুমকির ভাষাকে কোনো সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কূটনীতি, যুক্তি ও বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমেই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
শেখ মোহাম্মদ জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাতার ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।
ইরানের জনগণকে কঠিন পরিস্থিতিতে একা ফেলে রাখতে চায় না বলেও জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তাদের দুর্ভোগ কমাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। বিদ্যমান সমঝোতাগুলো বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান শেখ মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, সামনে ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং কয়েকটি দিন অপেক্ষা করছে। কাতারি দল দ্রুত কাজ শুরু করবে এবং কূটনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি