যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন ঘটছে এবং এর সঙ্গে বেসেন্টের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্রমেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বেসেন্টকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, তার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন ঝুঁকির মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসেন্টের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পোস্টে গালিবাফ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন। ওই প্রতিবেদনে বেসেন্টের অর্থনৈতিক নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।
গালিবাফের মতে, ইসরায়েলকে সহায়তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত শত সামরিক ঘাঁটি পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, তা আমেরিকান জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যেত। তার দাবি, এসব ব্যয়ের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা হলে মার্কিন জনগণ বেশি উপকৃত হতো।
শেয়ার করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদের হার কমানো এবং অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বেসেন্টের বিভিন্ন প্রচেষ্টা আর্থিক বাজারের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। অর্থবাজারে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকিতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হচ্ছে না বেসেন্টের জন্য।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহার এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি এবং সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন হুমকি বিশ্ব অর্থব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন সরকারি ঋণের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এমন পরিস্থিতিতে বেসেন্টের হাতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার কার্যকর কতটা সুযোগ রয়েছে এবং তার কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান শেষ পর্যন্ত তার অবশিষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরানি জনগণের বৈধ অধিকার স্বীকার করতে হবে: পেজেশকিয়ান
সমঝোতায় পৌঁছাতে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্র চাপের নীতি ছাড়লে ফের কূটনীতির পথ সচল: আরাঘচি