নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে ইরান

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থাগুলোর সমতুল্য কোনো প্রযুক্তি বিশ্বের অন্য কোথাও এখনো নেই।

ইরানি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানিয়েছেন, নতুন এই নকশাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তব ও ব্যবহারযোগ্য অস্ত্রব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। তার ভাষায়, এসব ব্যবস্থার কোনো স্বীকৃত বৈদেশিক প্রতিরূপ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, যা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির স্বকীয়তার প্রমাণ বহন করে।

জেনারেল এলহামি জানান, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধে তাদের এই দেশীয় প্রযুক্তির একাংশ ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, সেই যুদ্ধে এসব ব্যবস্থার সাহায্যে দুইশরও বেশি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

এই বাহিনীর প্রধান বলেন, শত্রুপক্ষের কাছে ইরানের এসব ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সীমিত ধারণা থাকাটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হিসেবে কাজ করেছে। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষ বুঝতেই পারেনি কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল প্রতিহত করেছে, ফলে সেই ব্যবস্থা মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশলও তাদের জানা ছিল না।

জেনারেল এলহামি আরও জানান, নতুন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখনই চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের পর কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে তবেই এগুলো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুত অবস্থায় পৌঁছাবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবং নকশাগুলো কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করলেই কেবল এসব ব্যবস্থা উৎপাদন ও ব্যাপক হারে তৈরির পর্যায়ে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ, বর্তমানে যা মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা এখনো সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক বা ব্যাপক উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে ইরান নিয়মিতভাবে জোর দিয়ে আসছে, বিশেষত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে দেশীয় উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্নে। ৪০ দিনের যুদ্ধে তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে তেহরান এখন এই সাফল্যকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এই সামরিক কর্মকর্তা।

ইরানি কর্মকর্তাদের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নতুন এই আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তা নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।