যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আরও বাড়ানো ও বহুমুখী করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের আগ্রহের কথাও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত ও ইরানের মধ্যে ১ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে ১৬৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালু করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ভারত পর্যালোচনা করছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য চলছে, তা মূলত বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোই নির্ধারণ করবে।
চাবাহার বন্দর প্রসঙ্গে বিক্রম মিসরি জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বন্দরটি নিয়ে যৌথভাবে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি বলেন, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মার্কিন যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনীতিই একমাত্র পথ। এ সময় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পেজেশকিয়ানকে ভারতে আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।
সূত্র: দ্য ওয়্যার
রাশিয়া থেকে আরও ৫ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
কাজের চাপ এড়াতে নিখোঁজদের নামে 'ভুয়া গল্প' সাজাতেন পুলিশ কর্মকর্তা
নেতানিয়াহুর সরকারকে আর একটি পয়সাও নয়: মার্কিন সিনেটর