ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত পরমাণু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করছে ইরান

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের একটি পরমাণু স্থাপনা দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত তালেঘান-২ স্থাপনায় সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে ব্যাপক নির্মাণকাজের চিত্র দেখা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ওপর একটি বড় আচ্ছাদন দেখা যায়। এর নিচে পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাণস্থলে মাটি বহনের ট্রাক, বুলডোজার, কংক্রিট পাম্প, কংক্রিট মেশিন ও ক্রেনসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেঘান-২ স্থাপনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবার ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়। চলতি বছরের মার্চেও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সেখানে হামলা চালায়। প্রথম হামলার পর ইরান স্থাপনাটি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছিল বলেও আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুনে স্থাপনাটিতে প্রাথমিক মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একাধিক শক্তিশালী বাঙ্কার-ধ্বংসকারী বোমার আঘাতে তৈরি হওয়া প্রবেশপথের গর্তগুলো মেরামত করে সেখানে কংক্রিটের স্তর বসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সাম্প্রতিক ছবিতে স্থাপনার ডান পাশে নতুন করে কংক্রিটের একটি শক্তিশালী কাঠামোও তৈরি করতে দেখা গেছে। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির মতে, এই কাঠামো বিমান হামলার সময় স্থাপনাটিকে অতিরিক্ত বিস্ফোরণ প্রতিরোধী সুরক্ষা দিতে পারে।

তালেঘান-২ স্থাপনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরমাণু অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে উন্নত বিস্ফোরক তৈরি এবং আমাদ প্রকল্পের আওতায় সংবেদনশীল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, দুই দশকেরও বেশি আগে সেখানে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বলেছে, স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পরমাণু অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়নসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকার পরও ইরান কেন স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ভূগর্ভে সরিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ওই ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থাও সংস্থাটি যাচাই করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিও গত সপ্তাহে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণকাজের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই এলাকাকে পরমাণু উপকরণ সংরক্ষণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল