সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকা প্রদেশে অবস্থিত কৌশলগত খারাব আল-জির সামরিক ঘাঁটিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
তাসনিমের প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘাঁটিটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলেও এর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। ঘাঁটিটি কোনো হামলার মুখে পড়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি রুমাইলান এলাকায় অবস্থিত খারাব আল-জির ঘাঁটিটি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি। চলতি বছরের মার্চে ঘাঁটিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (SOHR) তথ্যমতে, ওই সময় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির দিকে নিক্ষেপ করা হয় এবং মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে।
ঘাঁটিটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের কারণে। ফেব্রুয়ারিতে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র হাসাকা প্রদেশের কাসরাক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। তবে ওই প্রত্যাহারের পরও ইরাক সীমান্তের কাছে রুমাইলান অর্থাৎ খারাব আল-জির ঘাঁটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের উপস্থিতি অব্যাহত ছিল।
ফলে খারাব আল-জির ঘাঁটিতে বিমান প্রতিরক্ষা সক্রিয় হওয়ার খবরটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার মধ্যে সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো অতীতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
তবে তাসনিমের এই সর্বশেষ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। ঘাঁটিতে কোনো হামলা হয়েছে কি না, বিমান প্রতিরক্ষা কী ধরনের হুমকি শনাক্ত করেছে কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার সামরিক পরিস্থিতিও দ্রুত পরিবর্তনশীল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাসাইলাম এজেন্সির জুলাই ২০২৬-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, হাসাকা প্রদেশে সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং এপ্রিলের মধ্যে মার্কিন বাহিনী যেসব সামরিক স্থাপনায় অবস্থান করত, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে যায়।
এই পরিস্থিতিতে খারাব আল-জির ঘাঁটিতে বিমান প্রতিরক্ষা সক্রিয় করার প্রকৃত কারণ সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, পূর্ব সতর্কতা নাকি নিয়মিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি তা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।