হুথিদের বিরুদ্ধে ‘সিকোয়েন্সড’ বিমান অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। তবে এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে অস্ত্র বা গোলাবারুদ নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তা চাইছে রিয়াদ।

সৌদি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নওয়াফ ওবায়েদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার মূল চাহিদা অস্ত্র সরবরাহ নয়, বরং ‘টার্গেট প্যাকেজিং’ ও লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিতকরণ।

ওবায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কাছে প্রয়োজনীয় সামরিক অস্ত্রের ঘাটতি এখন প্রধান সমস্যা নয়। বরং কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, তার অবস্থান ও গুরুত্ব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ, মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই বেশি প্রয়োজন।

ওবায়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সৌদি আরবের অনুরোধ মূলত গোলাবারুদ নিয়ে নয়। প্রয়োজন হচ্ছে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ, ম্যাপিং এবং হামলার আগে লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত করার মতো সহায়তা।

এ ধরনের সহায়তা একটি দীর্ঘস্থায়ী বিমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ কোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার পর সেটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে হামলার ঝুঁকি কী এবং হামলার পর লক্ষ্যবস্তুটি ধ্বংস হয়েছে কি না—এসব তথ্য বিশ্লেষণে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রয়োজন হয়।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হুথিদের বিরুদ্ধে সহায়তা চেয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন তখন সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি না হলেও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও টার্গেটিংয়ে সহায়তার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

কেন সরাসরি যুদ্ধে যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র?

হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পর সৌদি আরবের ওপর চাপ বেড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়ানবু, তায়েফ, বায়েশ ও ফারাসান এলাকায় অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেনি। আল জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, সামরিক সম্পদের ওপর চাপ এবং ইয়েমেনে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র খোলার ঝুঁকি ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

‘সিকোয়েন্সড’ বিমান অভিযানের প্রস্তুতি

ওবায়েদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি প্রস্তুতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং হুথিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত একটি বড় বিমান অভিযানের প্রস্তুতি এগোচ্ছে।

এ ধরনের অভিযানে একবারের হামলার পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং হামলার ফলাফল মূল্যায়নের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সৌদি আরবের এই প্রস্তুতির সঙ্গে ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক ভূখণ্ডগত অগ্রগতিরও সম্পর্ক রয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলে মোখা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পর বাব আল-মান্দেবের ওপর তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে সৌদি আরবের সামনে এখন দুটি সমান্তরাল চ্যালেঞ্জ—একদিকে নিজেদের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা করা, অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রগতি ঠেকানো। আর এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের জন্য ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা ও টার্গেটিং সহায়তা সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের একটি বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে।

এমইউ
আরও পড়ুন