ইরানের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি বাহিনী হামলা চালাতে বা অবতরণ করতে চাইলে তাদের নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়তে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি। দেশের অসংখ্য প্রশিক্ষিত জনবলের কথা টেনে তিনি বলেন, এই বাহিনী অসম যুদ্ধকৌশলের মাধ্যমে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাফাভি বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ভূখণ্ড-রক্ষা-এই তিন ক্ষেত্রেই আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, খোদা না করুন, তারা যদি ইরানের কোথাও নামার চেষ্টা করে, তবে তারা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের কাছে অন্তত এক কোটি প্রশিক্ষিত বাসিজ সদস্য রয়েছে, যারা বিকেন্দ্রীভূত ও ‘মোজাইক-ধাঁচের’ কৌশল এবং অসম যুদ্ধপদ্ধতি প্রয়োগ করে দেশের প্রতিটি অঞ্চল রক্ষা করতে সক্ষম। তাঁর ভাষায়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার মূল স্তম্ভই হলো জনগণ।’
বিদেশি বাহিনীর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি
আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান সেনাপতি সাফাভি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলজুড়ে বিদেশি সামরিক তৎপরতার ওপর ইরানের ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘সামুদ্রিক অঞ্চলে, পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় কিংবা ভারত মহাসাগরেও, আমাদের রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা এই মুহূর্তে অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো শনাক্ত করি এবং তাদের অবস্থান নির্ধারণ করি।’
সাফাভির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। এর আগে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বিও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেকোনো স্থানে হামলা চালালে তারা ‘পূর্ণ শক্তিতে’ জবাব দেবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ধরনের বারবার হুঁশিয়ারি মূলত দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে বিদেশি শক্তিগুলোকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার কৌশল—যাতে কোনো সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে প্রতিপক্ষ তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক হয়। বাসিজ বাহিনীর বিশাল জনবল এবং দেশজুড়ে বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কাঠামোর কথা তুলে ধরে ইরান বোঝাতে চাইছে, প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণই তাদের প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি।
একই সঙ্গে সমুদ্র ও আকাশপথে মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধির ওপর ইরানের রাডার-নির্ভর নজরদারি সক্ষমতার কথা প্রকাশ্যে জানানোর মধ্য দিয়ে তেহরান এটাও স্পষ্ট করতে চাইছে যে, অঞ্চলে কোনো সামরিক তৎপরতাই তাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে না।
সূত্র: প্রেস টিভি