যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত: সেনাবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মাদ আকরামিনিয়া বলেছেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কঠিন অবস্থায় রয়েছে। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে।

আকরামিনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে ইরানি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার ইরানে বিমান হামলা চালায়, তাহলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা অভিযানের পরিধি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি থেকে জর্ডান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে আছে। ইরান এটিকে নিজেদের জন্য ‘লাল রেখা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার কথা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক চাপও অব্যাহত রয়েছে। ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপের মাধ্যমে হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আকরামিনিয়ার বক্তব্য ইরানের সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান ও মূল্যায়ন; যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এতে পাওয়া যায়নি।

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকার দাবি। এসব দাবির স্বাধীন সামরিক যাচাই এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।