২০২৫ সালে গাজার ৭০ শতাংশ মৃত্যু সরাসরি হামলায়

২০২৫ সালে গাজা উপত্যকায় নথিভুক্ত ২৪ হাজার ৬৫০টি মৃত্যুর মধ্যে ৭০ দশমিক ১ শতাংশই সরাসরি সামরিক হামলার কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের মৃত্যুহারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে গাজায় মোট ২৪ হাজার ৬৫০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৬ জনের মৃত্যু সরাসরি সামরিক হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানই গাজায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল হৃদ্‌রোগ। মোট মৃত্যুর ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হৃদ্‌রোগজনিত। মৃতদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

ভৌগোলিক হিসাবেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। মোট মৃত্যুর ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ গাজা শহরে, ২০ দশমিক ২ শতাংশ উত্তর গাজায়, ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ খান ইউনিসে, ১২ দশমিক ৩ শতাংশ মধ্যাঞ্চলে এবং ১০ দশমিক ৭ শতাংশ রাফাহতে নথিভুক্ত হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মে ৩৩ দশমিক ৪ জনে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৬। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধজনিত মৃত্যুগুলো বাদ দিলে ২০২৫ সালে এই হার প্রায় ১৫ দশমিক ৮-এ থাকত।

প্রতিবেদনে নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্যের অবনতিরও চিত্র উঠে এসেছে। প্রসবকালীন মৃত্যুহার প্রতি এক হাজার জন্মে ১৫ দশমিক ৮৫-এ উঠেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৯ দশমিক ৭৩। একই সময়ে অপরিণত জন্ম এবং কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যুও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধের ক্ষতি শুধু সরাসরি প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ নেই। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ওষুধের সংকট, চিকিৎসাসেবায় বাধা এবং গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যাঘাতও মৃত্যুহার বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

জাতিসংঘের নথিতেও ২০২৫ সালে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অব্যাহত অবনতির কথা উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ২৫ হাজার ৭১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল এবং ৬২ হাজার ৮৫২ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে, এসব সংখ্যা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি চিকিৎসাসেবা, অপরিণত শিশুদের পরিচর্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সরবরাহ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা এবং গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গাজার মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরও জানিয়েছে, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় এবং সেগুলোর সবগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জাতিসংঘের মাধ্যমে যাচাই করা হয় না। ফলে এসব পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎস ও সময়কাল উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।