‘ইরানকে চ্যালেঞ্জ করবেন না’-আমিরাতকে আকবর ভেলায়াতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানকে চ্যালেঞ্জ না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আন্তর্জাতিক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি। তিনটি বিতর্কিত দ্বীপের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আবুধাবির দাবির জবাবে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভেলায়াতি বলেন, গ্রেটার তুনব, লেসার তুনব ও আবু মুসা এই তিন দ্বীপ ‘চিরকাল’ ইরানের থাকবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দেশের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখনো অর্ধশতাব্দী পূর্ণ করেনি, তারা জাতিসংঘের মঞ্চে এমন দ্বীপের মালিকানা দাবি করছে, যেগুলো বহু শতাব্দীর ঐতিহাসিক নথি ও মানচিত্রে ইরানের নামে রয়েছে।

তবে দ্বীপ তিনটির মালিকানা নিয়ে ইরান ও আমিরাতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিতর্কে আমিরাত দ্বীপগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে সরাসরি আলোচনা অথবা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। একই অধিবেশনে ইরানও দ্বীপ তিনটির ওপর নিজেদের ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব’ পুনর্ব্যক্ত করে এবং আমিরাতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভেলায়াতি আমিরাতকে নিরাপত্তার জন্য বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিবেশী থেকে যায়, অতিথি চলে যায়’ অর্থাৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

তিনটি দ্বীপ নিয়ে বিরোধটি নতুন নয়। জাতিসংঘের নথিতে দেখা যায়, আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে এবং ইরানকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বকে অ-আলোচনাযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

ভেলায়াতির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ। এর ফলে ইরান-আমিরাতের পুরোনো দ্বীপ বিরোধের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিদেশি শক্তির উপস্থিতি নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।