রমজান যুদ্ধ চলাকালে ৩৯ হাজার সেনা মোতায়েন এবং ৫১টির বেশি যুদ্ধ ইউনিটের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ইরানে স্থল আগ্রাসনের শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরে সেনা মোতায়েনের ফলে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে জাহানশাহী বলেন, রমজান যুদ্ধের সময় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশ, সিস্তান ও বেলুচিস্তান এবং মাকরান উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এসব ইউনিট তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যের অবস্থান পুনর্বিন্যাস এবং যুদ্ধ ইউনিটগুলোর সমন্বিত তৎপরতা দেশের প্রতিরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইরানের স্থলবাহিনীর এই কমান্ডার বলেন, প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, বিমান হামলা এবং সামরিক কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে ইরানের ভেতরে অনুপ্রবেশের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, এ ধরনের হামলার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী দলগুলো ইরানে প্রবেশ করবে। তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ইউনিটগুলো সীমান্তজুড়ে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে মোতায়েন হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জাহানশাহী আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে তাদের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ইউনিটগুলোর বিন্যাস পুনর্গঠন এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যুদ্ধপ্রস্তুতিমূলক মহড়া চালানো এবং সীমান্তবর্তী ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করেন স্থলবাহিনীর কমান্ডার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় স্থলবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন জাহানশাহী। এ ক্ষেত্রে তিনি সেনাবাহিনীর চলমান আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম ব্রিগেড, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী, বিশেষায়িত ইউনিট এবং যান্ত্রিক বাহিনীর সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত বাহিনী মোতায়েন ও প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এসব ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইরানের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করাকে সেনাসদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন বলে উল্লেখ করেন জাহানশাহী। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে আসছে। তার বক্তব্যে সীমান্ত সুরক্ষা, সামরিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসন প্রতিরোধে ইরানের সেনাবাহিনীর অবস্থান তুলে ধরা হয়। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি