ইরানের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলে ধরেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘আমনেহ'র সোনালি রক্ত’। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তেহরানের একটি ক্যাফে ও কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে। বিরল এক রক্তের গ্রুপের অধিকারী এক কিশোরীর চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে নিষেধাজ্ঞার মানবিক পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক হাবিব আহমদজাদেহ। কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিষয়ক স্কুলের পরিচালক ও অধ্যাপক ক্লদিয়া শুফানের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সরাসরি ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ছবিটির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনী শেষে পরিচালক প্রায় ৯০ মিনিট দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছবিটির টানটান কাহিনিবিন্যাস, চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন এবং চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বলে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতে, চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তু সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।
একই সময়ে তেহরানের হিস্ট্রি ক্যাফেতেও ছবিটি প্রদর্শিত হয়। ইরানের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও ইতিহাস গবেষক হোসেইন দেহবাসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র সমালোচক আব্বাস ইয়ারি। ছবি দেখার পর সেখানে দর্শকদের সঙ্গে পরিচালকের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
‘আমনেহর সোনালি রক্ত’ প্রামাণ্যচিত্রের কেন্দ্রে রয়েছে বুশেহর এলাকার আমনেহ নামের এক কিশোরী। তার অত্যন্ত বিরল রক্তের গ্রুপের সন্ধানে চিকিৎসক ডা. মোকাদ্দামের প্রচেষ্টার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে এতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে সাতজনেরও কম মানুষের শরীরে এই রক্তের গ্রুপ পাওয়া যায়। চিকিৎসকের সেই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটি বিরল রক্তের সন্ধান, চিকিৎসার জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সামনে এনেছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি