ইরানের জলসীমার কাছাকাছি আসার সক্ষমতাও মার্কিন বাহিনীর নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে মার্কিন নৌবাহিনী কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই পারস্য উপসাগর কিংবা ইরানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক জাহাজকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বক্তব্যে আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতই সামরিক শক্তির বড়াই করুক, ইরানের আশপাশের জলসীমায় তাদের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে মরিচা ধরা জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলোকে পারস্য উপসাগরে ফিরতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন নিজেদের নৌবাহিনীকে আমেরিকার শক্তির প্রধান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে এবং এই শক্তি দিয়ে অন্য দেশকে ভয় দেখায়। কিন্তু ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ়তার কারণে সেই নৌবাহিনী এখন হরমুজ প্রণালি কিংবা ইরানের সামুদ্রিক সীমান্তের কাছেও যেতে পারছে না বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন আবদুল্লাহি। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে দাবি করছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে আবার বলছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, একই বিষয়ে এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
আবদুল্লাহি প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সব সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ধ্বংস হয়ে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কেন একই দাবি বারবার করছে? তাঁর অভিযোগ, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত, বিশেষ করে মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ জেনারেল আরও বলেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব, জনগণের প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সামরিক বাহিনী নিজেদের তৈরি সংকটের মধ্যেই আরও গভীরে নিমজ্জিত হবে।
আবদুল্লাহির ভাষ্য, ইরানের শক্তিনির্ভর কৌশলের লক্ষ্য হলো সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, প্রতিপক্ষ তত বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও সংকটের মুখে পড়বে। আল্লাহর সহায়তার ওপর আস্থা রেখে ইরান এই অবস্থান ধরে রাখবে বলেও জানান তিনি। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা কিংবা ইরানের জলসীমার কাছে তাদের উপস্থিতি নিয়ে জেনারেলের দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী
'মূলত গণমাধ্যমে প্রচারের জন্যই ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেন'
তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে অস্ত্র দিচ্ছে পাকিস্তান, অভিযোগ নাকচ ইসলামাবাদের