ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর ও মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
একাধিক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেন, হুথিরা ইয়েমেনের জাতীয় অবকাঠামো ও সম্পদে হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিমানবন্দরে হামলার মাধ্যমে অবরোধের অবসান চাওয়ার বিষয়ে হুথিদের বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এডেনে চালানো হামলায় হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর ওই মুখপাত্র জানান, হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৭টি হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এসব অভিযানে হুথি গোষ্ঠীর প্রায় ৩৩৬ জন নেতা ও যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ১১২টি সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান।
এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি জানান, হুথিদের অগ্রবর্তী কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, অতিরিক্ত সেনা ও রসদ সরবরাহের অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থান, সুরক্ষিত স্থাপনা, সরবরাহ ও চলাচলের পথ এবং ভারী অস্ত্রের সক্ষমতা এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।
তাইজ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বিমান হামলায় হুথিদের অবস্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশ ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা এবং ইয়েমেনের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রণাঙ্গনগুলোতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল হুথিদের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন প্রতিহত করা এবং বিভিন্ন রণাঙ্গনের মধ্যে তাদের যোদ্ধাদের চলাচল সীমিত রাখা।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা ও হুমকির উৎসগুলো লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হবে। সূত্র: আরব নিউজ