যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না: রেজায়ি

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে দেশটির নেতৃত্ব এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি তিনি পড়েছেন, তবে এখনো এর কোনো জবাব দেননি।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। ওয়াশিংটন এখনো আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশটির সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

ভ্যান্সের চিঠি প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, তিনি চিঠিটি পড়েছেন, কিন্তু এখনো কোনো জবাব পাঠাননি। তাঁর মতে, আগের চিঠিপত্রের তুলনায়—এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি চিঠির সঙ্গেও তুলনা করলে—ভ্যান্সের চিঠির ভাষা ও সুরে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তিনি এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

রেজায়ি বলেন, ওয়াশিংটনের আচরণে পরিবর্তন আসে কি না, তা দেখার জন্য ইরান অপেক্ষা করছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

ইরানের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেজায়ি বলেন, এ বিষয়ে দেশটির নেতৃত্ব এখনো নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের আগের পারমাণবিক নীতি বজায় রাখা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন এখন আলোচনায় উঠছে।

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের সঙ্গে দেশটি সহযোগিতা করে আসছে। তা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগের অবস্থান ও নীতি একইভাবে বজায় রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ইরানের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রেজায়ির দাবি, এসব অভিজ্ঞতার কারণেই পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে জনমত তৈরি হচ্ছে।

পারমাণবিক আলোচনায় এনপিটির অধিকার বজায় রাখবে তেহরান

পারমাণবিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রেজায়ি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য। যেকোনো আলোচনায় দেশটি তার অধিকার রক্ষার বিষয়ে অনড় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ইরান এমনভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ দেশটিতে আবার হামলা চালানোর সাহস না পায় এবং একই সঙ্গে ইরানের জনগণের অধিকারও নিশ্চিত হয়।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)