ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট নতুন একটি ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র নগরী উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অর্জন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির উৎপাদন লাইনগুলো দ্রুত ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল, এখন সেখানে গভীর ভূগর্ভে পূর্ণাঙ্গ ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নগরী’ গড়ে তোলা হচ্ছে।
মোহেব্বির দাবি, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বিস্তৃত ভূখণ্ড এবং নমনীয় উৎপাদন অবকাঠামোর কারণে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মধ্যেও অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা শত্রুপক্ষের পক্ষে সম্ভব হবে না। শত্রুরা একসময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাবে বলে ধারণা করলেও যুদ্ধের মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
২৬০টির বেশি যুদ্ধবিমান ও আকাশযান ধ্বংসের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন মোহেব্বি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ইরান অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদক ও রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে।
তিনি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের ব্যাপক উৎপাদন এবং কয়েকটি দেশ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এর প্রযুক্তি অনুকরণ করেছে বলে দাবি করেন। এ ছাড়া ‘আরমান’ ক্ষেপণাস্ত্র, ‘৩৫৮’ ড্রোন এবং ‘থার্ড খোরদাদ’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রপ্তানির কথাও উল্লেখ করেন।
মোহেব্বির সবচেয়ে বড় দাবিগুলোর একটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী ২৬০টির বেশি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও আকাশযান ভূপাতিত বা ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫, এফ-১৬, এফ-৫ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-১, আরকিউ-৪, অরবিটার ও লুকাস ড্রোন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ সংখ্যার মধ্যে ইরানি সেনাবাহিনীর অর্জন অন্তর্ভুক্ত নয় বলেও জানান।
আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করার সক্ষমতার দাবি
ইরানি মুখপাত্রের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের রাডারে শনাক্ত হওয়ার মাত্রা কমানোর প্রযুক্তি উন্নত করেছে দেশটি। এর ফলে এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের একাধিক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অতিক্রম করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত থাড (THAAD) ব্যবস্থা কার্যকরভাবে এসব হামলা ঠেকাতে পারেনি এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাও ব্যর্থতার মুখে পড়েছে।
মোহেব্বি আরও বলেন, যুদ্ধের মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নমনীয় উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানকেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইআরজিসির সমন্বিত সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সংঘাত হলে ‘বড় চমকের’ ইঙ্গিত
ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার মাধ্যমে ইরান প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে মোহেব্বি বলেন, শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংঘাতের তৃতীয় দফা শুরু হলে নতুন কিছু সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করা হবে, যা বিশ্বকে বিস্মিত করবে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত যুদ্ধবিমান ও আকাশযান ধ্বংস, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর হওয়া এবং সামরিক প্রযুক্তির সক্ষমতা-সংক্রান্ত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।