গাজা পুরোপুরি দখল নয়, হামাসের হাত থেকে মুক্ত করার কথা জানালেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (৮ আগস্ট) গাজা দখলে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে এক এক্স পোস্টে কথা জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সামরিকভাবে গাজার দখল নিতে নিজের ইচ্ছার কথা জানান নেতানিয়াহু। পরদিন শুক্রবার (৮ আগস্ট) গাজা পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেয় ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এরপর আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক আরও জোরালো হয়।ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি হামাসের হাতে জিম্মিদের পরিবারগুলোও এ পরিকল্পনায় অসন্তোষ জানায়।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ভুল বলে অভিহিত করেন। সেই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস ইসরায়েলের পরিকল্পনাকে বিপর্যয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের আরও ঝুঁকিতে ফেলার পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, যথেষ্ট হয়েছে। গাজাবাসী যুদ্ধ চায় না। হত্যাযজ্ঞ চায় না, আর গণহত্যা চায় না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেন, গাজা পুরোপুরি দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনা আরও মৃত্যু ও দুর্ভোগ ডেকে আনবে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আর দখলের পরিকল্পনা ভুল বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানি।
এমন ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে পিছু হটেন নেতানিয়াহু। বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য গাজা দখল করা নয়, বরং উপত্যকাটিকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করে সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করা।
এক এক্স পোস্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গাজা দখল করতে যাচ্ছি না বরং উপত্যকাটিকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করতে যাচ্ছি। অঞ্চলটি নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করতে এবং ভবিষ্যতের হুমকি প্রতিরোধে সহায়তা করবে।’