ইসরায়েলের দাবি, নিহত ফুটবল ব্যক্তিত্বরা ছিলেন জঙ্গি সদস্য

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে নিহত ১২ জন ফুটবলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নিহতদের মধ্যে ফিফার নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি মোহাম্মদ সামি মোহাম্মদ খাত্তাবও রয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। তবে ইসরায়েলের এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে গাজার ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, গাজার ফুটবল অঙ্গনের সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, এমন অভিযোগের জবাব দিতেই তারা নিহত ১২ জনের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ফুটবলার, রেফারি ও কোচ হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তি বাস্তবে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কয়েকজন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কমান্ড পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন, আর অন্যরা সক্রিয় যোদ্ধা হিসেবে কাজ করতেন।

আইডিএফের দাবি, মোহাম্মদ সামি মোহাম্মদ খাত্তাব ইসলামিক জিহাদের সেন্ট্রাল ক্যাম্পস ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। এ দাবির পক্ষে তারা তিনটি ছবি প্রকাশ করেছে। একটি ছবিতে তাকে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) লোগোযুক্ত জার্সি পরিহিত অবস্থায়, আরেকটিতে কালো পোশাকে এবং তৃতীয়টিতে হাতে অস্ত্রসহ দেখা যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুজন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দাবি, প্রকাশিত তথ্যের একটি অংশ উন্মুক্ত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হলেও তালিকাভুক্ত প্রত্যেককে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গাজার ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা, নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, ইসরায়েলের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তার ভাষ্য, ফুটবলার, কোচ, রেফারি ও ক্রীড়া সংগঠকদের হত্যার অভিযোগ আড়াল করতেই এসব দাবি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও অভিযানে নিহতদের অধিকাংশই নিজ নিজ বাড়ি বা আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্থাপিত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েলি হামলায় বহু ফুটবলার নিহত হয়েছেন এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তারা কেবল সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করছে। তাদের অভিযোগ, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী বেসামরিক এলাকায় অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সূত্র: আরব নিউজ

Attr
আরও পড়ুন