ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে ‘বিশৃঙ্খলাপূর্ণ’ ও ‘অপরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন।
বিবিসি-র ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন বোল্টন বলেন, ‘ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক অভিযান অত্যন্ত হঠকারী এবং এর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী চিন্তা নেই। আমেরিকান জনগণ, কংগ্রেস এমনকি মিত্র দেশগুলোও এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না।’
বোল্টন আরও সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান এখন বুঝতে পেরেছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে তারা বিশ্বকে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কম কিছু নয়। যদি এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকে, তবে ভবিষ্যতে তারা যখন খুশি বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পেয়ে গেল।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর থেকেই বোল্টন ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করা সবচেয়ে জরুরি।’
তিনি জানান, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বিশেষ ‘মিশন’ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ এই জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইইউ প্রধান এবং জন বোল্টনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করেছে।