ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এক নতুন কূটনৈতিক নাটক শুরু হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তবে গালিবাফ এই দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ এবং ‘ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে, গালিবাফ ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে আলোচনা করছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) গালিবাফ লিখেছেন, ‘ইরানের জনগণ আক্রমণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সকল ইরানি কর্মকর্তা সর্বোচ্চ নেতা এবং জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের পরাজয় ঢাকতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এসব ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অনেক নেতার সাথেই কথা বলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইরানের একজন অত্যন্ত সম্মানিত জ্যেষ্ঠ নেতার সাথে কথা বলছি (যিনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা নন)। আলোচনার জন্য আমি তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগের বিষয়ে ‘বড় ধরণের ঐকমত্য’ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হামানেহ জানিয়েছেন, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বার্তা পেয়েছে এবং নিজস্ব নীতি অনুযায়ী সেগুলোর জবাব দিয়েছে। তবে তিনি সরাসরি ‘আলোচনা’র খবর প্রত্যাখ্যান করেন।
হামানেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি কেন্দ্রে কোনো হামলা হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোর জবাব দেবে। হরমুজ প্রণালী এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে গালিবাফের মতো শীর্ষ নেতার নাম জড়িয়ে এমন খবর প্রকাশ করা মূলত ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। একদিকে ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সফলতা দাবি করছেন, অন্যদিকে ইরান সরাসরি তা অস্বীকার করে যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখছে। এই ধোঁয়াশা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক
ডিএইচএস অচলাবস্থা নিরসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প
