দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের ভয়াবহ যুদ্ধের পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজনে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাব লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমনে ব্যাপক মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। লেবাননের রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ বর্তমানে এই ইস্যুতে একাধিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
বৈরুত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের একটি অংশ এই প্রস্তাবকে স্থায়ী শান্তির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটির জন্য এই আলোচনা নতুন আশার আলো হতে পারে। তবে অন্য একটি বড় অংশ এই উদ্যোগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আপত্তির মূল কারণ হলো ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা।
এই সম্ভাব্য আলোচনার জন্য বর্তমানে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবাননের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার এবং শীর্ষ শিয়া রাজনীতিক নাবিহ বেরি আলোচনার জন্য এটিকেই প্রধান শর্ত হিসেবে দিয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে, ‘আগুনের মুখে’ বা যুদ্ধের মধ্যে কোনো আলোচনা হতে পারে না। ফলে এই ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি আলোচনার পথ কিছুটা সুগম করেছে।
তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি থাকা পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধ করার অধিকার লেবাননের জনগণের রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তারা পুনরায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা