ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতা ও নিজ দলের বিদ্রোহে ‘উভয় সংকটে’ ট্রাম্প

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এক কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে তিন মাস আগে শুরু করা ইরান যুদ্ধে কৌশলগত জয় না মেলায় বাড়ছে হতাশা, অন্যদিকে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘লুজার’ বা পরাজিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ট্রাম্প মরিয়া হলেও পরিস্থিতি তার প্রতিকূলে চলে যাচ্ছে।

তিন মাস আগে ঘটা করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে ইরানকে পর্যুদস্ত করার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট, তাদের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতেও তারা নারাজ। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হয়তো সামরিকভাবে ছোট ছোট কিছু জয় পেয়েছেন, কিন্তু ভূরাজনৈতিকভাবে তিনি বড় এক পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, যে যুদ্ধ স্বল্প সময়ে ‘হেসেখেলে’ জেতার কথা ছিল, তা এখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ফতোয়া এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যর্থতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ওপর। ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত তহবিল নিয়ে সিনেট রিপাবলিকানদের সঙ্গে ট্রাম্পের বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। এই তহবিল থেকে ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিল হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতারা। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস রিপাবলিকানদের মধ্যে ‘বাস্তব ফাটল’ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে, সিনেট রিপাবলিকানদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আগের মতো নেই।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে এবং বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি মহলের ‘ভোটিং মেশিন নিষিদ্ধ’ করার গোপন পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছে রয়টার্স। তারা হাতেগোনা পদ্ধতিতে নির্বাচন করে ফলাফল অনুকূলে আনার চেষ্টা করলেও কোনো শক্ত প্রমাণের অভাবে তা ভেস্তে গেছে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা রিপাবলিকানদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প যদি দ্রুত কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারেন কিংবা নতুন কোনো সংঘাত (যেমন কিউবা বা ভেনিজুয়েলা) শুরু না করেন, তবে নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে তার দল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের চেয়েও বড় ‘অপমানজনক’ পরাজয় হিসেবে ইরান অভিযান চিহ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন থিঙ্কট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের ফেলো রবার্ট কেইগান।