সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন জেডি ভ্যান্স

যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন দফা আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলাকে অন্তর্বর্তী চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভ্যান্স, আর ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্প্রতি ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

সুইজারল্যান্ড যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি লেবাননের যুদ্ধবিরতি নিয়েও অগ্রগতি আশা করছে ওয়াশিংটন। কয়েকদিনব্যাপী আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র  ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর বিকেলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও পাকিস্তানকে নিয়ে চারপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননের চলমান সংঘাত আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। পাশাপাশি ইরানের জব্দকৃত অর্থ, তেল রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

তবে আলোচনার আগেই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে শনিবার প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২০ জুন) অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বিশ্ববাজারের উদ্দেশ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেলও পরিবহন করা হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কিংবা পরবর্তীতেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষের অগ্রাধিকার এখনো ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি চাইলেও ইরান লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বুর্গেনস্টকের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা