যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে যেসব ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম

সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই সরাসরি বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলে, উভয় পক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এটিই হবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রথম আনুষ্ঠানিক মুখোমুখি আলোচনা। 

লেবানন পরিস্থিতি ও তেহরানের অবস্থান

চলতি বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি। ইরান এর আগে বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিদলের প্রধান অগ্রাধিকার হলো লেবানন প্রশ্ন। এই জ্বলন্ত ইস্যুতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলে তারা আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো শুরু করার পক্ষে নয়।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

এরই মধ্যে শনিবার (২০ জুন) ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আকস্মিক ঘোষণা দেয় যে লেবানন পরিস্থিতির কারণে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোরভাবে ইরানের এই নতুন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রণালির ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই কৌশলগত নৌপথে বিশেষ টোল বা ফি আরোপের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখার বিষয়টি বিশ্ব মধ্যস্থতাকারীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুদ

চলমান এই প্রাথমিক আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলে পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ড যাত্রার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করছেন এই সপ্তাহান্তের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

এর আগে প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। তবে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিদ্যমান মজুদ নিয়ে আসলে কী করা হবে, সে সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। সেই সময়সীমা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের মজুদ ও তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিদ্ধান্তই অতীতে দুই পক্ষের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম বড় বাধা ছিল। তাই এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা অর্জন করা মোটেও সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

SN
আরও পড়ুন