ট্রাম্পের মুখের আদলে ‘মাদক বড়ি’, নেদারল্যান্ডসে রেড অ্যালার্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখের আদলে তৈরি কিছু এক্সট্যাসি বড়ি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে নেদারল্যান্ডসের মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট। এসব বড়িতে বিপজ্জনক মাত্রায় পিএমএমএ নামের একটি রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি আগস্টে নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি মাদক পরীক্ষাকেন্দ্রে এসব বড়ি জমা দেওয়া হয়। পরীক্ষার পর সেগুলোতে ‘অত্যন্ত বেশি’ মাত্রায় পিএমএমএ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এসব বড়ি কোনোভাবেই সেবন করা উচিত নয়। কারণ এতে থাকা রাসায়নিক শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বড়িগুলোর এক পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখাবয়বের ছবি রয়েছে। অন্য পাশে লেখা রয়েছে ‘ট্রাম্প’ এবং ‘এনএল’।

পিএমএমএ এমন একটি রাসায়নিক, যার কিছু বৈশিষ্ট্য এক্সট্যাসির প্রধান উপাদান এমডিএমএর সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে পিএমএমএর প্রভাব তুলনামূলক দেরিতে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রত্যাশিত উদ্দীপক অনুভূতি তৈরি নাও করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা বেশি মাত্রায় বড়ি সেবন করার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট আরও জানিয়েছে, এসব বড়ি সেবনের পর বমিভাব, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং খিঁচুনির মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ বড়ি সেবনের কয়েক ঘণ্টা পরও প্রকাশ পেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যানিক গ্রুটহুইস জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এসব বড়ি সেবনের সঙ্গে কোনো মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে—এমন খবর পাওয়া যায়নি।

নেদারল্যান্ডসে এক্সট্যাসি উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তবে ২০২৪ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পার্টিতে ব্যবহৃত মাদক হিসেবে এক্সট্যাসি দেশটিতে এখনো বেশ জনপ্রিয়।

ট্রাম্পের মুখাবয়ব ব্যবহার করে মাদক বড়ি তৈরির ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে জার্মান পুলিশ ট্রাম্পের মাথার আকৃতির প্রায় ৫ হাজার কমলা রঙের এক্সট্যাসি বড়ি জব্দ করেছিল।

সূত্র: বিবিসি