যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালেই-নিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালেই-নিক বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এসব নতুন সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতির কিছু ‘চমক’ যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এ সময়ে ইরান দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, হামলার ভৌগোলিক পরিসর এবং প্রতিপক্ষের ব্যাপক অগ্নিশক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার সেনাবাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং কেন্দ্রীয় খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহযোগিতা করেছে। এর ফলে প্রতিপক্ষকে তাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তালেই-নিক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি হলেও এসব সংঘাত রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতির সুযোগও তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও উৎপাদন অব্যাহত ছিল।
তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সহযোগিতা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছে। কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদনও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তালেই-নিকের ভাষ্য, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো ক্ষেত্রে ইরান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকলে অস্ত্র রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটি এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ তৈরি করে। প্রতিরক্ষা খাতে ইরানের স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন আর শুধু অন্য দেশের প্রযুক্তির অনুকরণ বা পুনর্নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
যুদ্ধের সময় ইরানের টিকে থাকার সক্ষমতাকেই সবচেয়ে বড় ‘চমক’ হিসেবে উল্লেখ করেন তালেই-নিক। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানের সামরিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে বলে আশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত যুদ্ধনীতির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখা ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই আক্রমণাত্মক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষ যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ বা উদ্যোগ নিজেদের হাতে নিতে না পারে।
তালেই-নিক জানান, ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী যুদ্ধে এসব ব্যবস্থা উন্নত করা হয়, যার ফলে পরবর্তী সংঘাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্যদের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলের ক্ষেত্রে আরও কিছু নতুন সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ‘চমক’ নীতির অংশ হিসেবে এসব সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ময়দানেই প্রকাশ করা হবে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: নিহত অন্তত ৭ হাজার ৯০০
মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন ঘটছে: গালিবাফ
সমঝোতায় পৌঁছাতে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিলো ইরান