ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অস্ত্র পরিকল্পনায় মাস্ককে দায়িত্ব দিলো পেন্টাগন

ভবিষ্যৎ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতা চিহ্নিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পেন্টাগন। এ লক্ষ্যে স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ নামে ১২০ দিনের একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

মাস্কের সঙ্গে এই উদ্যোগের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের সহপ্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নিউট গিংরিচ। পুরো কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেন্টাগনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল।

সরকারি দায়িত্বে মাস্কের এটি নতুন করে প্রত্যাবর্তন। এর আগে তিনি সরকারি দক্ষতা বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবার নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি কাজ করবেন তিনি।

প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের আওতায় যুদ্ধক্ষেত্রের সম্ভাব্য নতুন পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা হবে। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথের বাইরের মহাকাশ পর্যন্ত বিভিন্ন সম্ভাব্য সামরিক পরিবেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, নির্দেশিত শক্তিনির্ভর অস্ত্র এবং জীবপ্রযুক্তিসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক ব্যবস্থার ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

প্রকল্পটিতে বেসরকারি প্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী নির্বাহী এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হবে। এসব প্রযুক্তি কীভাবে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা কীভাবে তৈরি করা সম্ভব, তা নিয়ে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট দল।

তবে মাস্কের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। এ কারণে ভার্জিনিয়া ও ম্যাসাচুসেটসে কার্যক্রম পরিচালনাকারী অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিত্র করপোরেশন প্রকল্পটির বিশ্লেষণ তদারক করবে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে।

প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ নাগাদ পেন্টাগনের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে হেগসেথের জারি করা স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতের সামরিক কার্যক্রমের পরিবেশ আগেভাগে চিহ্নিত করতে হবে এবং সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। সূত্র: দ্য ডিফেন্স পোস্ট