যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাকে হত্যা করা হবে। কীভাবে তা আমার কাছে বড় বিষয় নয়, যতক্ষণ সে মারা যায়।” তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ
মার্কিন সেনাবাহিনীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ওই সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই হামলায় আরও ৩২ জন আহত হয়েছিলেন।
২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন দেন বলে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে বিতর্ক
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেন্টাগন এর আগে জানিয়েছিল, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার কথা উঠে এসেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শুক্রবার বলেন, সম্প্রচার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। সম্প্রচার হলে তিনি নিজে তা দেখবেন না বলেও জানান। কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা, ধর্মীয় নেতা ও মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট পক্ষ এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, মৃত্যুদণ্ডকে প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে পরিণত করা হলে তা মানবিক মর্যাদা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন তৈরি করবে।
সামরিক মৃত্যুদণ্ডে বিরল ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিরল। ফায়ারিং স্কোয়াডে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটির সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে, তখন ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এক সেনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে আইনসম্মত মৃত্যুদণ্ডের প্রকাশ্য সম্প্রচারের নজিরবিহীন ঘটনা হতে পারে। তবে সম্প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক, আইনি প্রশ্ন এবং প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এখনো আলোচনায় রয়েছে।