বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলার একমাত্র পথ হিসেবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে কিম জং উন বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত, বিশেষ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর ‘গ্যাংস্টারসুলভ’ লোভের কারণে বিশ্ব রাজনীতি জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে যে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে, তা মূলত উত্তর কোরিয়ার ওপর হামলার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন তিনি। এই বহুমুখী সামরিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন কিম।
পিয়ংইয়ংয়ের এই অবস্থানের বিষয়ে সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিসের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া স্পষ্টভাবেই পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে। তারা মূলত একটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে সমমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আলোচনা করা যায়।
যদিও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে কিম জং উন দেশটির প্রচলিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ১০ হাজার টন ওজনের একটি কৌশলগত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো কূটনৈতিক চাপই তাদের এই অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না।