যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়লে ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা ইরান বিবেচনা করছে, এমন প্রতিবেদনের পর ন্যাটো জানিয়েছে, যেকোনো হুমকি মোকাবিলা এবং সব মিত্রকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে জোটটি। ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেছেন, জোটের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী ও কার্যকর রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনা তেহরান বিবেচনা করছে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় জোট প্রস্তুত এবং সব মিত্রকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ন্যাটোর ওই কর্মকর্তা চলতি বছরের শুরুর দিকে তুরস্কের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনাগুলোও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, চারটি পৃথক ঘটনায় ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দিকে আসা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং কার্যকর।
ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে সংঘাতের পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বিশেষ করে ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা আক্রান্ত হলে জোটের প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক মহলে এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় ন্যাটোকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্যও তৈরি হয়েছিল।
ফলে ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনা নিয়ে ইরানের কথিত হুমকি ন্যাটোর জন্য একই সঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা তৈরি করছে। জোটের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, মিত্রদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত। সূত্র: আলজাজিরা