ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং বিশ্বশান্তিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলিতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএমএল-এন-এর চিফ হুইপ রানা মুহাম্মদ আরশাদ এই প্রস্তাবটি জমা দেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পাশাপাশি উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফের দিকনির্দেশনায় এই কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। গত ৫ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া এক কঠোর আলটিমেটামে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
চরম উত্তেজনার সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জনসমক্ষে ট্রাম্পকে আলটিমেটামের সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে তিনি ইরানকেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিশ্চিত করেন, তিনি শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন।
পাঞ্জাব চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারপারসন সারাহ আহমদ অন্য একটি প্রস্তাব জমা দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের ‘বিজ্ঞ নেতৃত্ব’ এবং সময়োপযোগী দূতিয়ালি একটি সম্ভাব্য বড় মাপের যুদ্ধ এড়াতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে।