মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে সৌদি আরবের জেদ্দায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদি যুবরাজ।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। সৌদি যুবরাজ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নিরলস কূটনৈতিক তৎপরতাকে স্বীকৃতি দেন এবং এর প্রশংসা করেন।
এদিকে, ওয়াশিংটনের বিশেষ বার্তা নিয়ে বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, বুধবারের এই বৈঠকের পর ইরান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনার
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াকে তেহরান আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে দেখছে। তবে পরবর্তী আলোচনার জন্য ইরান একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার যৌক্তিক কাঠামো মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত কোনো দাবি তোলা বা আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করা থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত থাকতে হবে।’
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়াতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে। এখন সবার নজর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
তেহরান সফরে এলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, যুদ্ধের অবসান সন্নিকটে?
এবার পারস্য ও লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরানের