'পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার'

পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, চীনা নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকার কোনো ধরনের ঘাটতি রাখবে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শেহবাজ শরীফ বলেন, পাকিস্তানে বসবাসকারী চীনা ভাই-বোনদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সর্বোত্তম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব এবং এ ক্ষেত্রে কোনো কমতি রাখা হবে না।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা, জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্প খাতে পাকিস্তান ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিক চুক্তি সই হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব চুক্তির সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস আসে এমন এক সময়, যখন কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বেলুচিস্তানের সাইন্দাক তামা ও স্বর্ণখনিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী হামলার কারণে ওই অঞ্চলের সরবরাহ পথ ব্যাহত হওয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অপারেশন ‘শাবান’-এর আওতায় বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার পর এই উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে চীনা নাগরিক ও চীনা প্রকল্পগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের (ন্যাকটা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২০ জন চীনা নাগরিক নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

বক্তব্যে শেহবাজ শরীফ আরও বলেন, সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং চীন পাকিস্তানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধুদের অন্যতম। তিনি বলেন, সিপিইসি ১.০-এর মাধ্যমে চীন পাকিস্তানে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগ কর্মসূচিগুলোর একটি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিপিইসি ২.০ আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, ভ্যাকসিন উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: ডন