কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ভিডিওতে ফিলিপাইনকে ‘ভীতু বানর’ হিসেবে উপস্থাপনের ঘটনায় চীনের নিন্দা করেছে ম্যানিলা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উপস্থাপনাকে ‘অমানবিক ও বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়ে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে ফিলিপাইনের পতাকাযুক্ত পোশাক পরা একটি বানরকে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পতাকা সংবলিত দুটি হাত তাকে একটি নৌকার ওপর তৈরি দুর্বল কাঠামোর কারাওকে মঞ্চে ঠেলে দিচ্ছে।
ভিডিওতে বানরটি ভুল গান গাওয়ায় তাকে তিরস্কার করা হয়। এরপর সে ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়’ লেখা একটি কাগজ বের করে। পরে তাকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলা হয় এবং জলকামান দিয়ে আঘাত করা হয়।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপাইন ও চীনের জাহাজগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এবং মাঝে মাঝে সংঘর্ষ বেড়েছে। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও স্কারবরো শোয়াল, যেটিকে চীন হুয়াংইয়ান দ্বীপ নামে উল্লেখ করে। স্কারবরো শোয়াল ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার এবং চীন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিতর্কিত ওই এলাকায় চীনের কোস্টগার্ড নিয়মিতভাবে ফিলিপাইনের জাহাজ লক্ষ্য করে উচ্চচাপের জলকামান ব্যবহার করে আসছে। এসব ঘটনায় জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আইনি ও রাজনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন উদ্বেগজনক ও মর্যাদাহানিকর উপস্থাপনের কোনো স্থান নেই।” একই সঙ্গে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এ ধরনের উপস্থাপন ও ভুল তথ্য ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।”
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওটিকে ‘ঘৃণ্য প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি চীনের প্রচারণা ব্যবস্থার ‘নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব’ প্রকাশ করে।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্ট তেওদোরো বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাম্প্রতিক আচরণের অসংগতিপূর্ণ প্রবণতা উপেক্ষা করার মতো নয়।
এদিকে, গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের দ্যা হেগে অবস্থিত “স্থায়ী সালিশি আদালত” দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফিলিপাইনের পক্ষে দেওয়া রায়ের ১০ বছর পূর্তি হয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তৃত অংশের ওপর চীনের দাবি বৈধ ভিত্তিহীন।
তবে বেইজিং ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। চীনের দাবি, সালিশি ট্রাইব্যুনালের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না।
দক্ষিণ চীন সাগরে দুই দেশের উপরিপাতন দাবি ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও ম্যানিলার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানি ও সমুদ্রপথে সংঘর্ষের অভিযোগ তুলেছে।
গত জুনে চীন স্কারবরো শোয়ালের প্রবেশমুখে একটি ভাসমান বাধা স্থাপন করেছিল। ফিলিপাইন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানোর পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
একই মাসে চীন ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্ট তেওদোরো এবং তার নিকট পরিবারের সদস্যদের মূল ভূখণ্ড চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
চায়না ডেইলির পোস্টের সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, ১০ বছর পরও তথাকথিত দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায় শান্তির সমাধান নয়, বরং আইনের আড়ালে সংঘাতের উৎস।
ক্যাপশনে আরও অভিযোগ করা হয়, ফিলিপাইন বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করে দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং নিজেদের অন্য দেশের ভূরাজনৈতিক খেলায় ব্যবহৃত একটি ‘ঘুঁটিতে’ পরিণত করছে।
বানরের ভিডিওটি ছাড়াও গত কয়েক সপ্তাহে চায়না ডেইলি ফিলিপাইনের দক্ষিণ চীন সাগর নীতিকে ব্যঙ্গ করে একাধিক ভিডিও ও কার্টুন প্রকাশ করেছে। এসব উপস্থাপনায় ফিলিপাইনকে কখনও ভাঁড়, কখনও সাপ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সাগরে নিখোঁজ ৫৩০ রোহিঙ্গার ভাগ্যে কী ঘটেছে?
টানা ৬ রাত ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের
নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা, ৩ জাহাজকে বাধা দিলো যুক্তরাষ্ট্র
২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল চীন: ট্রাম্প
কানাডায় ৮৫০টি দাবানল, বিপর্যস্ত জনজীবন