বেলুচিস্তানে সেনা বহরে হামলায় নিহত ৪৫ 

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে হামলার ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট জানিয়েছে, প্রদেশের মাসতুং এলাকার কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা নতুন করে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএলএ জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর মূল বহর, বহরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং হামলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য নিহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত নিহত বা আহতের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে বিএলএর দেওয়া হতাহতের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ দাবি করেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও তাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এজন্য হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফ্রন্টিয়ার কোর, বেলুচিস্তান পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবাহিনীও যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর মধ্যেই বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং প্রদেশটির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরও এই প্রদেশে অবস্থিত, যা অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরু থেকেই বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), আর কয়েকটির সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তবে এসব ঘটনায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দাবি সামনে এলেও অধিকাংশ তথ্যই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

AS
আরও পড়ুন