ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ হয়েছেন ৫জন সাংবাদিক। সেদেশের জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিরা সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানী জাকার্তার কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে স্পিডবোটে করে আনাক ক্রাকাতাউয়ের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু এরপর তারা আর ফিরে আসেননি। স্পিডবোটের মালিকও নৌযানটির ক্রুদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি।
নৌযানটিতে থাকা পাঁচ সাংবাদিক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সেখানে যাচ্ছিলেন। তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের হয়ে কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্তারা, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইনিউজের সাংবাদিক ছিলেন।
গত শনিবার থেকে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজ সাংবাদিকদের একজন তার এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং স্পিডবোটের মালিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান আল আমরাদ এক বিবৃতিতে জানান, নিখোঁজ বোটটিতে পাঁচজন সাংবাদিক, দুজন ক্রু সদস্য ও একজন গাইড ছিলেন। সম্প্রচারমাধ্যম ‘কম্পাস টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দিনের তল্লাশি অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘আন্তারা’ নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজদের মধ্যে তাদের আলোকচিত্রী মুহাম্মদ বাগুস খোইরুন্নাসও রয়েছেন। আন্তারা জানিয়েছে, নিখোঁজদের বিষয়ে আরো তথ্য পেতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে পুলিশ তাদের জানিয়েছে, উত্তাল সমুদ্র ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপদেশ ইন্দোনেশিয়ায় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত ঘটনা। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বৈরী আবহাওয়াকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। এর আগে গত জানুয়ারিতে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে একটি বোট ডুবে তিনজন স্প্যানিশ পর্যটক মারা যান। এ ছাড়া একটি পৃথক ঘটনায় তল্লাশি অভিযান শেষ করার পর ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ও মৃত ঘোষণা করা হয়।