হরমুজ সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলার

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠেছে। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

বিশ্ববাজারে তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম দিনের শুরুতে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে ওঠে। পরে কিছুটা কমলেও এ বছরের মার্চ, এপ্রিল ও জুলাইয়ের পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসীমা অতিক্রম করল তেল।

যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম উভয়ই ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তাই তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগরে এবং একটি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার শিকার হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে সেখানে সংঘাতের বিস্তার ইরানের তেল সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

এর আগে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের তেল ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা চালালে তেলের দাম আরও বেড়ে যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ঘটনার ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৫ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিমান ও জাহাজের জ্বালানি ব্যয়ও বাড়ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

চলতি বছর তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। মার্চে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার পর জুনে তা কমে প্রায় ৭২ ডলারে নেমে যায়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতার খবরে তখন বাজারে স্বস্তি ফিরেছিল। পরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় জুলাইয়ে আবারও ১০০ ডলার ছাড়ায় ব্রেন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের নজর এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের পরিমাণ দ্রুত কমে গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংঘাতের প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় দেশটির আমদানি আবার বাড়লে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন

এম সি এইচ
আরও পড়ুন